Dhaka 5:38 am, Wednesday, 18 March 2026
News Title :
ইরান আর ইরাক এক নয়, আঞ্চলিক শক্তিকে ভুলভাবে নেয়ার মাশুল গুনতে হবে। – Iran and Iraq are not the same, regional powers will have to pay the price for taking things the wrong way. টাঙ্গাইলে বাস-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩। – 3 killed in head-on collision between bus and auto-rickshaw in Tangail. যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব। – US proposes ceasefire to Iran. আবারও যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর ইরানের হামলা। – Iran attacks US Gulf allies again. লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় স্বামী-স্ত্রীসহ শিশু সন্তানের মৃত্যু। – Husband, wife, and child die after being hit by truck in Lalmonirhat. ইরানের মিনাবে স্কুলে মার্কিন হামলা যুদ্ধ আইনের লঙ্ঘন। – US attack on Iran’s Minabe school violates laws of war. শত্রুর এই অপরাধ আমরা ভুলব না, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেবোই’। – We will not forget this crime of the enemy, we will avenge the blood of the martyrs. লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিমান হামলা ইসরায়েলের। – Israel launches multiple airstrikes in southern Lebanon. ইরানের পাল্টা জবাবে ১৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ২০০। – 13 US soldiers killed, 200 injured in Iranian retaliation. ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না মিত্ররা, পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। – Allies are not responding to Trump’s call, counterattacks are underway.

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিশেষ অনুমতি পেল কোন কোন দেশ? – Which countries have received special permission to transit through the Strait of Hormuz?

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার ১৬তম দিনে বিশ্ব তেলের বাজারের ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেও, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ যাতায়াতের বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে। তবে এই সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে।

যাদের নিরাপদ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে :

পাকিস্তান : রোববার পাকিস্তানের পতাকাবাহী ‘করাচি’ নামক আফরাম্যাক্স ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালিটি পার হয়েছে। ওমান উপকূলে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর এটি ছিল অবরোধের পর প্রথম অ-ইরানি জাহাজের সফল যাত্রা।

ভারত : ভারতের জন্য বিশেষ ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রেখেছে ইরান। গত শনিবার ভারতের দুটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ফাতাহি জানিয়েছেন, বিশেষ বিবেচনায় ভারতীয় জাহাজগুলোকে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তুরস্ক : তুর্কি পরিবহন মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজ সেখানে অপেক্ষায় ছিল। এরমধ্যে একটি জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ইরানের বন্দর ব্যবহার করেছিল।

নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দরকষাকষি করছে যারা :

চীন : বেইজিং ইরানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে। চীনের তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে আসে। রয়টার্স জানিয়েছে, কাতার থেকে এলএনজি এবং অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপারের জন্য বেইজিং তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।

ফ্রান্স ও ইতালি : ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের এই দুই দেশ তাদের জাহাজের সুরক্ষার জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে মিত্র দেশ ছাড়া অন্যদের জন্য শর্ত বেশ কঠিন রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব :

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার। কিন্তু ২ মার্চ আইআরজিসি প্রধানের উপদেষ্টা ইব্রাহীম জাবেরি প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করার পর দাম দ্রুত বেড়ে যায়। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫% বেড়ে ১০৫.৭০ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি জানিয়েছেন, কোন দেশ পার হতে পারবে তা সম্পূর্ণ তাদের সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মূলত যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে বা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে, তাদের জন্য এই পথ শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখা হচ্ছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Daily Prime Post

Popular Post

ইরান আর ইরাক এক নয়, আঞ্চলিক শক্তিকে ভুলভাবে নেয়ার মাশুল গুনতে হবে। – Iran and Iraq are not the same, regional powers will have to pay the price for taking things the wrong way.

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিশেষ অনুমতি পেল কোন কোন দেশ? – Which countries have received special permission to transit through the Strait of Hormuz?

Update Time : 11:03:01 am, Tuesday, 17 March 2026

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার ১৬তম দিনে বিশ্ব তেলের বাজারের ভূ-রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’। ইরান এই জলপথটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলেও, নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ যাতায়াতের বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে। তবে এই সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীল রয়েছে।

যাদের নিরাপদ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে :

পাকিস্তান : রোববার পাকিস্তানের পতাকাবাহী ‘করাচি’ নামক আফরাম্যাক্স ট্যাঙ্কার সফলভাবে প্রণালিটি পার হয়েছে। ওমান উপকূলে জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর এটি ছিল অবরোধের পর প্রথম অ-ইরানি জাহাজের সফল যাত্রা।

ভারত : ভারতের জন্য বিশেষ ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা রেখেছে ইরান। গত শনিবার ভারতের দুটি এলপিজিবাহী ট্যাঙ্কার নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ফাতাহি জানিয়েছেন, বিশেষ বিবেচনায় ভারতীয় জাহাজগুলোকে এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তুরস্ক : তুর্কি পরিবহন মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি তুর্কি মালিকানাধীন জাহাজ সেখানে অপেক্ষায় ছিল। এরমধ্যে একটি জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই ইরানের বন্দর ব্যবহার করেছিল।

নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দরকষাকষি করছে যারা :

চীন : বেইজিং ইরানের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালাচ্ছে। চীনের তেলের চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে আসে। রয়টার্স জানিয়েছে, কাতার থেকে এলএনজি এবং অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপারের জন্য বেইজিং তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে।

ফ্রান্স ও ইতালি : ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউরোপের এই দুই দেশ তাদের জাহাজের সুরক্ষার জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে মিত্র দেশ ছাড়া অন্যদের জন্য শর্ত বেশ কঠিন রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রভাব :

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার। কিন্তু ২ মার্চ আইআরজিসি প্রধানের উপদেষ্টা ইব্রাহীম জাবেরি প্রণালিটি বন্ধ ঘোষণা করার পর দাম দ্রুত বেড়ে যায়। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৫% বেড়ে ১০৫.৭০ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি জানিয়েছেন, কোন দেশ পার হতে পারবে তা সম্পূর্ণ তাদের সামরিক বাহিনীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মূলত যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছে বা নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে, তাদের জন্য এই পথ শর্তসাপেক্ষে খোলা রাখা হচ্ছে।