ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০০ জন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হকিন্স জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ১৮০ জন সেনাসদস্য চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে এসেছেন। জখম হওয়া সেনাদের শরীরে অগ্নিদগ্ধ হওয়া, বিস্ফোরণের টুকরোর আঘাত এবং আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতির মতো সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে আক্রান্ত হয়ে তারা হতাহত হন।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই হতাহতের প্রধান কারণ ইরানের ‘একমুখী’ ড্রোন হামলা। গত সপ্তাহে মার্কিন বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশিরভাগ সেনার ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির জন্য এই ধরনের ড্রোন দায়ী। ড্রোনের নির্ভুল আঘাত ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মার্কিন শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
উভয় পক্ষের এই সরাসরি সংঘাতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই লড়াই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Nayeem Al Mamun 


















