Dhaka 3:38 pm, Saturday, 13 June 2026
News Title :
ছোট সাহেবের বিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার পর সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। – Pakistani PM to visit Saudi Arabia, Qatar, Türkiye after US-Iran talks. ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে: মাসুদ পেজেশকিয়ান। – Efforts to force Iran to surrender will fail: Masoud Pezeshkian. তিনি আর আগের মানুষ নেই, ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্প। – He is no longer the same person, Trump tells Italian PM. ইসরায়েলে দফায় দফায় হিজবুল্লার রকেট হামলা। – Hezbollah rocket attacks continue in Israel. হরমুজে বিধ্বস্ত ২৪ কোটি ডলারের অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন। – $240 million sophisticated US drone crashes in Hormuz. এক বছরেরও বেশি সময় ফ্রান্সে আটক থাকার পর ইরানে ফিরেছেন মাহদিয়ে এসফান্দিয়ারি। – Mahdi Esfandiari returns to Iran after more than a year in detention in France. আগের সরকারের ব্যর্থতায় হাম প্রকট আকার ধারণ: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা।Measles became more prevalent due to previous government’s failures: PM’s information advisor. যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে ইউরোপের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে ইরান। – Iran is trying to get closer to Europe to pressure the US. পোলিশ পার্লামেন্টে ইসরায়েলি পতাকায় নাৎসিদের স্বস্তিকা প্রতীক দেখিয়ে সংসদ সদস্যের প্রতিবাদ। – MP protests in Polish parliament over Nazi swastika symbol on Israeli flag.

ইরান আর ইরাক এক নয়, আঞ্চলিক শক্তিকে ভুলভাবে নেয়ার মাশুল গুনতে হবে। – Iran and Iraq are not the same, regional powers will have to pay the price for taking things the wrong way.

মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের অতীতের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর পুনরাবৃত্তি, যেখানে ‘শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন’-এর কৌশল ইরাক ও সিরিয়াতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছিল।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল সতর্ক করেছেন, ইরানকে ইরাকের মতো ভাবা একটি গুরুতর ভুল ছিল। তার মতে, ইরান একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক শক্তি। ভৌগোলিক অবস্থান, সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত ভিত্তি এবং জনশক্তির দিক থেকে এটি অনেক বেশি সহনশীল ও সংগঠিত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির উপর ইরানের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি করছে, অন্যদিকে বৃহত্তর সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দ্রুত বিজয়ের আশা ভেস্তে গেছে, এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, এবং সেখানে বিঘ্ন ঘটায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে, যা তাদের আগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, এই সংঘাত ভারত-এর জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় কর্মরত, এবং দেশটির জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এই পুরো ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে না ফিরলে এর ‘মূল আঘাত বা ক্ষতি সহ্য করা’ লাগবে পুরো বিশ্বকেই।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Daily Prime Post

ছোট সাহেবের বিয়ে

ইরান আর ইরাক এক নয়, আঞ্চলিক শক্তিকে ভুলভাবে নেয়ার মাশুল গুনতে হবে। – Iran and Iraq are not the same, regional powers will have to pay the price for taking things the wrong way.

Update Time : 08:29:46 pm, Tuesday, 17 March 2026

মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের অতীতের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর পুনরাবৃত্তি, যেখানে ‘শাসকগোষ্ঠী পরিবর্তন’-এর কৌশল ইরাক ও সিরিয়াতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছিল।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল সতর্ক করেছেন, ইরানকে ইরাকের মতো ভাবা একটি গুরুতর ভুল ছিল। তার মতে, ইরান একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক শক্তি। ভৌগোলিক অবস্থান, সামরিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত ভিত্তি এবং জনশক্তির দিক থেকে এটি অনেক বেশি সহনশীল ও সংগঠিত। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির উপর ইরানের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের দাবি করছে, অন্যদিকে বৃহত্তর সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দ্রুত বিজয়ের আশা ভেস্তে গেছে, এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, এবং সেখানে বিঘ্ন ঘটায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে, যা তাদের আগের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, এই সংঘাত ভারত-এর জন্য বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় কর্মরত, এবং দেশটির জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এই পুরো ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথে না ফিরলে এর ‘মূল আঘাত বা ক্ষতি সহ্য করা’ লাগবে পুরো বিশ্বকেই।