Dhaka 5:56 pm, Friday, 20 March 2026
News Title :
আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল নায়েইনি নিহত। – IRGC spokesman General Naeini killed. আরব মিত্রদের বিপুল অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। – US is providing massive arms to Arab allies. ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি ইরানের। – Iran claims drone attack on Israel’s security ministry. ইরানের তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে : মার্কিন অর্থমন্ত্রী। – US Treasury Secretary: Restrictions on Iranian oil may be eased. ইরানের গ্যাস ফিল্ডে আর হামলা চালাবে না ইসরায়েল : নেতানিয়াহু। – Israel will not attack Iranian gas fields again: Netanyahu. পারমাণবিক হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। – World Health Organization prepares for nuclear attack. ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে আগুন। – Fire at Israeli oil refinery in Iranian missile attack. ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। – US F-35 fighter jet damaged in Iranian attack. যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে পাকিস্তান। – Pakistan is developing missiles capable of hitting the United States. নাটোরে বিএনপির ২ পক্ষের সংঘর্ষ, এএসআই আহত। – ASI injured in clash between two BNP factions in Natore.

পাকিস্তানকে চীন-রাশিয়ার সারিতে রেখে ‘ভয়ংকর’ তথ্য দিলেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান। – US intelligence chief gives ‘horrifying’ information, putting Pakistan in line with China and Russia.

পাকিস্তানকে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে একই সারিতে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি বলেছেন, ‘দেশটির (পাকিস্তান) দ্রুত অগ্রসরমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকেও আঘাতের আওতায় আনতে পারে। এই পাঁচটি দেশ নতুন, উন্নত বা প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহণব্যবস্থা গবেষণা ও উন্নয়ন করছে, যেগুলো পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং আমাদের মূল ভূখণ্ডকে আঘাতের পরিসরে নিয়ে আসে।’
বুধবার (১৮ মার্চ) সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন উপস্থাপন করে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

পাকিস্তান সম্পর্কে আইনপ্রণেতাদের গ্যাবার্ড বলেন, ‘পাকিস্তানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সম্ভাব্যভাবে এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যার পাল্লা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখবে।’
লিখিত প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে একাধিক হুমকি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে বলা হয়, দেশটি ক্রমবর্ধমানভাবে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা তাদের সামরিক বাহিনীকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দিচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এমন আইসিবিএম তৈরি হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হবে।
গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান, চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া সম্ভবত এমন পরিবহণব্যবস্থা গবেষণা ও উন্নয়ন চালিয়ে যাবে, যা পাল্লা ও নির্ভুলতা বাড়াবে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং নতুন ধরনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প তৈরি করবে।

প্রতিবেদনটি দক্ষিণ এশিয়াকে ‘দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে যে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ‘পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বহন করে যাচ্ছে’।

এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি এবং আল-জাজিরার প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেয়নি।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, ‘এমন উদ্বেগ এই প্রথম নয়। আগেও এমন মন্তব্য করা হয়েছে। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বলে আসছে, তাদের প্রতিরোধক্ষমতা—প্রচলিত ও পারমাণবিক—ভারতকে লক্ষ্য করেই। ভারত সম্পর্কেও পাকিস্তান সম্মানজনক শান্তি চায়, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে হুমকি বলেছে বলে নয়।’

গ্যাবার্ডের মন্তব্য বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা এমন সম্ভাবনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। পাকিস্তানের সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র শাহীন-৩-এর পাল্লা আনুমানিক ২ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার, যা পুরো ভারতে আঘাত করার জন্য যথেষ্ট।

আইসিবিএম সাধারণত ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে বোঝায়, যা পাকিস্তানের কাছে বর্তমানে নেই। এর চেয়েও বড় বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের দূরত্ব ১১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি। এমন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে কেবল রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন ও যুক্তরাজ্যের রয়েছে। ভারত ও উত্তর কোরিয়া এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। ইসরায়েলের জেরিকো-৩ নামের ক্ষেপণাস্ত্রও একই রকম পাল্লার বলে ধারণা করা হয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Daily Prime Post

Popular Post

আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল নায়েইনি নিহত। – IRGC spokesman General Naeini killed.

পাকিস্তানকে চীন-রাশিয়ার সারিতে রেখে ‘ভয়ংকর’ তথ্য দিলেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান। – US intelligence chief gives ‘horrifying’ information, putting Pakistan in line with China and Russia.

Update Time : 11:15:58 am, Friday, 20 March 2026

পাকিস্তানকে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে একই সারিতে রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি বলেছেন, ‘দেশটির (পাকিস্তান) দ্রুত অগ্রসরমাণ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকেও আঘাতের আওতায় আনতে পারে। এই পাঁচটি দেশ নতুন, উন্নত বা প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহণব্যবস্থা গবেষণা ও উন্নয়ন করছে, যেগুলো পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের ওয়ারহেড বহনে সক্ষম এবং আমাদের মূল ভূখণ্ডকে আঘাতের পরিসরে নিয়ে আসে।’
বুধবার (১৮ মার্চ) সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন উপস্থাপন করে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

পাকিস্তান সম্পর্কে আইনপ্রণেতাদের গ্যাবার্ড বলেন, ‘পাকিস্তানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সম্ভাব্যভাবে এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যার পাল্লা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখবে।’
লিখিত প্রতিবেদনে পাকিস্তানকে একাধিক হুমকি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে বলা হয়, দেশটি ক্রমবর্ধমানভাবে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা তাদের সামরিক বাহিনীকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা দিচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এমন আইসিবিএম তৈরি হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হবে।
গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান, চীন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়া সম্ভবত এমন পরিবহণব্যবস্থা গবেষণা ও উন্নয়ন চালিয়ে যাবে, যা পাল্লা ও নির্ভুলতা বাড়াবে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং নতুন ধরনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প তৈরি করবে।

প্রতিবেদনটি দক্ষিণ এশিয়াকে ‘দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের অঞ্চল’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছে যে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ‘পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বহন করে যাচ্ছে’।

এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি এবং আল-জাজিরার প্রশ্নেরও কোনো উত্তর দেয়নি।

অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও পারমাণবিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার তুঘরাল ইয়ামিন বলেন, ‘এমন উদ্বেগ এই প্রথম নয়। আগেও এমন মন্তব্য করা হয়েছে। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে বলে আসছে, তাদের প্রতিরোধক্ষমতা—প্রচলিত ও পারমাণবিক—ভারতকে লক্ষ্য করেই। ভারত সম্পর্কেও পাকিস্তান সম্মানজনক শান্তি চায়, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে হুমকি বলেছে বলে নয়।’

গ্যাবার্ডের মন্তব্য বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা এমন সম্ভাবনার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। পাকিস্তানের সবচেয়ে দীর্ঘপাল্লার কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র শাহীন-৩-এর পাল্লা আনুমানিক ২ হাজার ৭৫০ কিলোমিটার, যা পুরো ভারতে আঘাত করার জন্য যথেষ্ট।

আইসিবিএম সাধারণত ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে বোঝায়, যা পাকিস্তানের কাছে বর্তমানে নেই। এর চেয়েও বড় বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের দূরত্ব ১১ হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি। এমন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমানে কেবল রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন ও যুক্তরাজ্যের রয়েছে। ভারত ও উত্তর কোরিয়া এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। ইসরায়েলের জেরিকো-৩ নামের ক্ষেপণাস্ত্রও একই রকম পাল্লার বলে ধারণা করা হয়।