মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের অব্যবস্থাপনায় চরম বিপাকে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮টি দল চূড়ান্ত হওয়ার পর শেষ ধাপের টিকিট বিক্রি শুরু করতেই দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন কারিগরি জটিলতা। টিকিট পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনলাইন পোর্টালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।
অভিযোগ উঠেছে— কেবল সিস্টেম জটিলতাই নয়, টিকিটের মূল্য নির্ধারণ নিয়েও চরম ধোঁয়াশা তৈরি করেছে ফিফা। ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতিতে টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নির্ধারণ করায় সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে প্রিয় দলের ম্যাচ দেখার স্বপ্ন। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ইউরোপীয় কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েছে।
বিশ্বকাপের টিকিট হাতে পাওয়া এখন সাধারণ সমর্থকদের জন্য রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন টিকিট প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের একটি সাধারণ মানের টিকিটের দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ৩শ’ থেকে ৫শ’ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৫ থেকে ৭৫ হাজার টাকা)। রাউন্ড অব সিক্সটিনের জন্য গুণতে হবে ৪শ’ থেকে ৭শ’ পাউন্ড। কোয়ার্টার ফাইনাল ও শেষ চারের ম্যাচে টিকিটের দাম ১ হাজার ৫শ পাউন্ড পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।
তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকছে ফাইনালে; মেটলাইফ স্টেডিয়ামের শিরোপা নির্ধারণী মেগা ফাইনালে একটি টিকিটের দাম ১ হাজার ১শ পাউন্ড থেকে শুরু করে ২ হাজার পাউন্ডের (প্রায় ৩ লাখ টাকা) ওপরে পৌঁছেছে। এমনকি প্রিমিয়াম এবং ভিআইপি হসপিটালিটি প্যাকেজগুলোর দাম ৫ হাজার থেকে শুরু করে রেকর্ড ২৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে, যা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে তীব্র সমালোচনা।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আসরের চাহিদাকে ‘১ হাজার বছরের বিশ্বকাপের সমান’ দাবি করলেও, মাঠের বাইরের এই লেজেগোবরে অবস্থায় তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ ফুটবল বোদ্ধারা। ৪৮ দলের এই মেগা ইভেন্ট সফল করা এখন ফিফার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Afiaa zaman 



















