ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের কড়া বক্তব্যে। ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বরতা’ আখ্যা দিয়ে তিনি ইহুদিবাদী এই দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে ইসরায়েলি নেতাদের পাল্টা আক্রমণাত্মক মন্তব্যে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। আর এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট বলছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান রোববার (১২ এপ্রিল) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিন ও লেবাননে নৃশংসতা চালানোর অভিযোগ করেছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, অতীতে কারাবাখ ও লিবিয়ায় যেমন হস্তক্ষেপ করা হয়েছিল, তেমন পদক্ষেপ ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও নেয়া হতে পারে।
ইস্তাম্বুলে ইন্টারন্যাশনাল এশিয়া-পলিটিক্যাল পার্টিস কনফারেন্সে বক্তব্য দিতে গিয়ে এরদোয়ান বলেন, ‘রক্তে রঞ্জিত এই গণহত্যার নেটওয়ার্ক কোনও নিয়ম-নীতি মানছে না, মানবিক মূল্যবোধ উপেক্ষা করে নিরীহ শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে চলেছে।’
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় লেবাননের ১২ লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এরদোয়ান ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া একটি বিতর্কিত আইনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এটি মূলত ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করেই করা হয়েছে।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এরদোয়ান আরও কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যা করছে, তা ঠেকাতে আমাদের শক্তিশালী হতে হবে। আমরা যেমন কারাবাখে গিয়েছি, যেমন লিবিয়ায় গিয়েছি, তেমনই তাদের বিরুদ্ধেও যাব। আমাদের সামনে কোনও বাধা নেই— শুধু শক্তিশালী হতে হবে।’
এরদোয়ানের এই বক্তব্যকে ফিলিস্তিনি অধিকার রক্ষায় তুরস্কের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Nayeem Al Mamun 



















