অত্যধিক তাপের কারণে আধুনিক ইলেকট্রনিক্স যেখানে ব্যর্থ হয়ে যায়, সেখানে নতুন এক চিপ প্রযুক্তি সেই সীমা ভেঙে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকেরা এমন একটি মেমরি ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা প্রায় ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপেও নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে। এই অগ্রগতি শুধু মহাকাশ বা চরম পরিবেশেই নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎকেও আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সংবাদমাধ্যম সায়েন্স ডেইলি বলছে, স্মার্টফোন থেকে স্যাটেলাইট— সবকিছুর পেছনেই কাজ করে আধুনিক ইলেকট্রনিক্স। কিন্তু এদের একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আর তা হলো— তাপ। সাধারণত তাপমাত্রা ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেই বেশিরভাগ ডিভাইস নষ্ট হতে শুরু করে। দশকের পর দশক ধরে এই তাপজনিত সীমাবদ্ধতা প্রকৌশলীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকেরা মনে করছেন, তারা এবার সেই সীমা অতিক্রমের পথ খুঁজে পেয়েছেন।
গত ২৬ মার্চ ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় জোশুয়া ইয়াংয়ের নেতৃত্বে একটি দল এমন একটি নতুন মেমরি ডিভাইস উন্মোচন করেছেন, যা ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (প্রায় ১৩০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রাতেও কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এই তাপমাত্রা গলিত লাভার চেয়েও বেশি এবং এ ধরনের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আগের অর্জিত যেকোনও সীমার অনেক ওপরে। পরীক্ষায় ডিভাইসটিতে কোনও ত্রুটির লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং ৭০০ ডিগ্রি ছিল পরীক্ষার যন্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা।
ইউএসসি ভিটারবি স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইউএসসি স্কুল অব অ্যাডভান্সড কম্পিউটিংয়ের মিং শিয়েহ ডিপার্টমেন্ট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক জোশুয়া ইয়াং বলেন, ‘আপনি একে বিপ্লব বলতে পারেন। এটি এখন পর্যন্ত প্রদর্শিত সবচেয়ে উন্নত উচ্চ-তাপমাত্রার মেমরি’।
এই নতুন ডিভাইসটির নাম মেমরিস্টর। ন্যানোস্কেলের এই উপাদানটি একসঙ্গে ডেটা সংরক্ষণ ও গণনা করতে পারে। এটি তৈরি করা হয়েছে ক্ষুদ্র স্তরযুক্ত কাঠামোয়, যেখানে দুই পাশে দুটি ইলেকট্রোড এবং মাঝখানে একটি পাতলা সিরামিক স্তর রয়েছে।
গবেষণার প্রথম লেখক জিয়ান ঝাও ডিভাইসটি তৈরি করেছেন উপরের ইলেকট্রোডে টাংস্টেন, মাঝখানে হাফনিয়াম অক্সাইড সিরামিক এবং নিচের স্তরে গ্রাফিন ব্যবহার করে। টাংস্টেনের গলনাঙ্ক সব উপাদানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, আর একক-পরমাণু পুরু কার্বনের স্তর গ্রাফিন এর অসাধারণ শক্তি ও তাপসহনশীলতার জন্য পরিচিত।
Adiba tumme lamia 





















