ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৯৬০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এমনটি জানিয়েছে দেশটির মানবিক সহায়তাকারী সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা’র বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ৯৬০ জনকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য কাছের হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভয়াবহ এই বিমান হামলার ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মোট এক লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় এক লাখ আবাসিক ভবন এবং ২৪ হাজার বাণিজ্যিক স্থাপনা রয়েছে। এতে করে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে। এরিই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় সমন্বিত হামলা শুরু করে। এর আগে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ইরান-ইসরায়েল সরাসরি পাল্টাপাল্টি হামলার পর, যার জেরে পুরো অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা শুধু সামরিক নয়, বরং বেসামরিক জীবন ও অবকাঠামোর ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে রাজধানী তেহরানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের হামলা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও, এখনো পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
Md Rakib Hossain 



















